ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাতের নতুন প্রভাব এবার ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আল জাজিরা, এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) হুথি বাহিনী সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু শহরের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
জিজানের তেল শোধনাগারের কাছে হামলার পর ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। অন্যদিকে ইয়ানবুতে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গ্রিস পরিচালিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে টানা ১৩ রাত বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে শুক্রবারের পর টানা দ্বিতীয় রাতেও ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
তবে যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার কারণে জ্বালানি ও সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।
এদিকে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কাস্পিয়ান সাগরেও। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় সামরিক মালামাল বহনকারী কয়েকটি জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রয়েছে। ট্রাম্পও বলেছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.