চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ও ঢাকা থেকে দুই জোড়া চলাচল করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। এতদিন ট্রেন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস। এর আগে প্রথমে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ গন্তব্যের উদ্দেশে যায়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের পর আজ দুপুর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রেললাইনটি চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। এরপর দোহাজারী পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার তীব্র স্রোতে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গিয়েছিল। তবে রেললাইন বাঁকা বা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পাথর পুনর্বিন্যাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি উঁচু করার কাজ শেষ করার পর আজ থেকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪ জুলাই ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেলপথ পানিতে ডুবে যায়। এ সময় রেলপথ দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে পানি নামলেও শমসের পাড়ায় পানি জমে ছিল। রেলপথ তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়ে। পরে তা ষোলশহর রেলস্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার মধ্যরাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.