ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ৯ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপায় উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় তিনটি এবং কক্সবাজার শহরের একটি এলাকায় এই পাহাড় ধসের ঘটনাগুলো ঘটে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণ আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রবিবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে একটি বসতঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়ে। এতে ঘরটি চাপা পড়ে রোহিঙ্গা বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ এবং দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর কিছু পরেই রাত পৌনে ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে মাটিচাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়।

এদিকে একই রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), এবং অপর এক পরিবারের দুই শিশু ভাই মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

অন্যদিকে সোমবার ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী আকবর নামের একজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.