ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (চলতি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা) মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।
আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকের নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। এজন্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগিরই আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্যের বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
আমানতকারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ব্যাংকটি।
তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি। সেই অর্থের পুরোটাও এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। আশা করি, যারা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।
আলতাফ হুসাইন আরও জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজ) পরিমাণ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে, যা গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তাকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।
সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদ তা গ্রহণ করেছে। ফলে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.