বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ডিপ-টেক ও সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)-এর উদ্যোগে সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন ইউএসএ সেমিকন্ডাক্টর রোডশো ২০২৬-এর যাত্রা সফলভাবে শুরু হয়েছে অস্টিন, টেক্সাস থেকে।
৫ জুন বিএসআইএ-এর সভাপতি এম. এ. জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এএমডি, এনএক্সপি এবং টোকিও ইলেকট্রন (টিইএল)-এর জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ভিশন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্ভাবনভিত্তিক প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ উদ্যোগের প্রধান স্থপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন বাংলাদেশের অগ্রগতি, লক্ষ্য এবং স্বকীয়তা তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের স্বল্প ব্যয়ের শ্রমশক্তির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মেধার ঘনত্ব, উদ্ভাবনী শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর সমাধান, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ডাইন্যামিক সলিউশন ইনোভেটরস (ডিএসআই), আইটটেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড এবং সিলিকোনোভা লিমিটেড তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও উপস্থাপন করে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা, কারিগরি সহযোগিতা, পারস্পরিক সফর এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম উন্নয়নে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
৬ জুন অনুষ্ঠিত ব্রেইনগেইন অস্টিন সংবর্ধনায় প্রায় ৭৫ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন, যাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ১,৫০০ বছরেরও বেশি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সামনে সিলিকন রিভার ভিশন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের জন্য একটি সুসংগঠিত, বাস্তবভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য ডিপ-টেক রোডম্যাপ তারা এই প্রথম দেখলেন।
দুই ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে। আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সেমিকন্ডাক্টর কৌশল, জনশক্তি উন্নয়ন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, স্টার্টআপ গঠন, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল, বাংলাদেশের প্রথম প্রজন্মের বহু প্রবাসী সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ এখন তাদের অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক এবং নেতৃত্ব দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে আগ্রহী। এই লক্ষ্য পূরণে ব্রেইনগেইন একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখেন এনএক্সপি-এর ড. সাঈদ বদরুদ্দোজা, এএমডি-এর সামিউল খান, টোকিও ইলেকট্রন-এর জোয়েল বার্নেটসহ অসংখ্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী।
বিএসআইএ-এর সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইন ইউএসএ রোডশো পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.