প্রথম প্রান্তিকে ইবিএলের মুনাফায় ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত মোট মুনাফায় ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শক্তিশালী বিনিয়োগ আয়, বৈদেশিক মুদ্রা আয় প্রবৃদ্ধি এবং প্রভিশনিং ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী সমন্বিত মোট মুনাফা ১৯৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫৫ কোটি টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়ায় ১.২৪ টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময় ছিল ০.৯৭ টাকা। অন্যদিকে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে হয়েছে ৩২.৭৫ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৬.৪১ টাকা।

ইবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশীদ বলেন, ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতির পরিবেশেও ব্যাংকটি স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দেখাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সম্পদের গুণগত মান, মূলধনের শক্ত অবস্থান ও তারল্য বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়েছি।”

ঋণের সুদ আয় ও আমানতের সুদ ব্যয়ের ব্যবধান থেকে অর্জিত নিট আয় কমে ১১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২২৮ কোটি টাকা। এতে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহারে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ইবিএল ঋণের পরিবর্তে সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ফলে প্রচলিত ঋণভিত্তিক সুদ আয় কিছুটা কমলেও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও থেকে নিরাপদ ও বেশি মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

এ সময় সুদ ব্যয় ১৬ শতাংশ বেড়ে ১,০৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, কারণ তহবিল সংগ্রহের ব্যয় উচ্চ অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে ঋণ থেকে সুদ আয় ৩ শতাংশ বেড়ে ১,১৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বিনিয়োগ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৪৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছানোয় নিট সুদ আয়ের চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফি, কমিশন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসহ নন-ফান্ডেড আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা বাণিজ্য প্রবাহ ও কার্ড ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধির ফলে সম্ভব হয়েছে।

এ সময় ইবিএল শক্তিশালী সম্পদমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকটির একক ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে ২.৮০ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২.৭৯ শতাংশ। এ হার দেশের ব্যাংকিং খাতের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ব্যাংকটির মূলধনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত (সিআরএআর) একক ভিত্তিতে ১৬.৭১ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ১৬.০৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশের অনেক ওপরে।

তারল্য পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল। ব্যাংকটির লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও (এলসিআর) ছিল ২৩৬.৯৪ শতাংশ এবং নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) ১১৪.৯৭ শতাংশ, উভয়ই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ১০০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

ব্যাংকটির মোট আমানত আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে একক ভিত্তিতে মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা।

ইবিএল টানা তৃতীয় বছরের মতো Credit Rating Agency of Bangladesh (ক্র্যাব) থেকে দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ ক্রেডিট রেটিং অর্জন করেছে, যা সর্বোচ্চ। এছাড়া Moody’s ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সার্বভৌম রেটিং সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকটির রেটিং ছিল ‘বি-২’।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.