স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।
মার্কিন এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনেউঠে আসা যেকোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।
কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে “ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির” কথা জানিয়েছিল।
এখন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, কর্মকর্তাদের মতে বিমান হামলার হুমকি অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে, এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন।
তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়, কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।
সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।
গত সপ্তাহে, মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.