সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি পিছিয়েছে।
সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, রাষ্ট্রের পক্ষ হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে-যেখানে সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রিট আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হবে।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট বেঞ্চ আশা করছে, এ সময়ের মধ্যে সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিদ্যমান কাঠামো স্থানান্তর করবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টের এই প্রত্যাশা শুনেছেন ও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন।
এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল হাইকোর্ট বেঞ্চকে জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র আপিল করবে। তাই এ পর্যায়ে হাইকোর্টের জন্য রিটের অগ্রগতি চালিয়ে যাওয়া যথাযথ হবে না।
রিট আবেদনের শুনানির সময় আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের থাকতে দেওয়া হয়নি। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে শুনানি শুরুর আগে বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নির্দেশে উপস্থিত সাংবাদিকদের কক্ষ ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন।
গতকাল রোববার সাত আইনজীবী জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় বহাল রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটকারীদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মিজানুল হক, আবদুল্লাহ সাদিক, মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ ও জায়াদ বিন আমজাদ এবং নিম্ন আদালতের আইনজীবী সাব্বির রহমান ও মাহমুদুল হাসান।
তারা ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম বজায় রাখতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়েছেন। রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৪(৪) ও ১১৬ এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এর মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি, যা কোনোভাবেই ধ্বংস, ক্ষুণ্ন বা সীমিত করা যায় না। ক্ষমতার পৃথকীকরণের ধারণা সংবিধানে সুন্দরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের তিন অঙ্গকে সংবিধান নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে।
নির্বাহী ও আইনসভা কোনো আইন বা সংশোধনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি কেড়ে নিতে পারে না। তাই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (বাতিল) আইন, ২০২৬ কে সংবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল সংসদ অন্তর্বর্তী সরকার জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত অধ্যাদেশও রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.