ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণে লাগাম এসেছে। এই ঋণ তিন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু বিতরণকৃত ঋণের তুলনায় খেলাপির হার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষ পুনঃতফসিল ও আদায় জোরদারের ফলে গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নেমেছে। মোট ঋণের যা ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা ছিল মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছরের শেষ তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। অবশ্য গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় দুই লাখ ১১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের (২০২৫ সাল) ৩১ ডিসেম্বর শেষে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ তিন হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। সেসময় খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক ত্রৈমাসিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিক হিসাবে চিত্রটি ভিন্ন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে। এক বছরে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। যা এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.