ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের প্রতিবাদের তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানজুড়ে। রোববার (০১ মার্চ) দেশটির বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্র।
খবর আল-জাজিরা
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পাকিস্তান-এর বড় বড় শহর। সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে বন্দরনগরী করাচিতে, যেখানে ১০ জন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হন। রাজধানী ইসলামাবাদে দুই জন এবং উত্তরাঞ্চলের স্কার্দুতে অন্তত আট জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবাদগুলো মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে হলেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলিম হলেও মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি শিয়া, যারা দেশজুড়ে বিস্তৃত। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তেহরানে হামলার প্রতিশোধের দাবি তোলেন।
ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে “যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া মানেই বিশ্বাসঘাতকতা” ও “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ” শ্লোগান দেন। রাজধানীর একটি বড় হোটেলের কাছে পাঁচ থেকে আট হাজার মানুষ, নারী ও শিশুসহ, খামেনির ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোথাও কোথাও গুলির শব্দও শোনা গেছে।
একজন নারী বিক্ষোভকারী আল জাজিরাকে বলেন, নিজেদের সরকারের ওপর ভরসা না থাকলেও তারা ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে রাস্তায় নেমেছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কূটনৈতিক এলাকায় অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়, এতে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়।
করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ভবনের ফটক টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। জানালা ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করা হয়। গুলি কারা ছুড়েছে—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না অন্য কেউ—তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটিকে “চরম দুঃখজনক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের স্কার্দুতে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। সেখানে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে। লাহোর, পেশোয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও বিক্ষোভ হয়, যদিও সেখানে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইরানের পরবর্তী হামলাগুলোর সমালোচনা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শোক প্রকাশ শান্তিপূর্ণভাবেই হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ইরান সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.