ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিতে সহজ শর্তে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মজুরি সহায়তা হিসেবে দুই মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দেওয়ার জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঋণ পরিশোধে ১২ মাসের সময়ও চাওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান জানান, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা ও চলমান শুল্কযুদ্ধের কারণে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। কার্যাদেশ কমে যাওয়া, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় কারখানাগুলো চাপে রয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকবে। তবে মার্চ মাসে নিয়মিত মজুরি ছাড়াও ঈদ বোনাস এবং মার্চের অগ্রিম ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে, যা এক মাসেই প্রায় দ্বিগুণ বেতন-ভাতা দেওয়ার চাপ তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পোর্ট চার্জ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তারল্য সংকট আরও গভীর হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান করা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
রফতানি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রফতানি আয় ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে আগস্ট ২০২৫ থেকে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-২৬ মাসে প্রবৃদ্ধি থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিসেম্বর মাসে রফতানি ১৪.২৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১.৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যচাপের কারণে রফতানিকারকরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না। রফতানি অর্ডারের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো সাধারণত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৭০–৭৫ শতাংশ কাঁচামাল সংগ্রহ এবং ২০ শতাংশ ব্যয় মজুরি ও পরিচালনায় ব্যয় করে। ডেফার্ড শিপমেন্ট ও অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে এবং ঋণ সীমা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিজিএমইএ গভর্নরের কাছে বিশেষ বিবেচনায় প্রচলিত ঋণসীমার বাইরে গিয়ে দুই মাসের মজুরির সমপরিমাণ ঋণ দেয়ার অনুরোধ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ঋণে তিন মাস গ্রোস পিরিয়ড রেখে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। দ্রুত সহায়তা না দিলে শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা দেশের প্রধান রফতানি খাতের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.