ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে কৃত্রিম পদ্ধতি কিংবা কোনো আবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশের কৃত্রিম চাষ সংক্রান্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জানানো হয়, ইলিশ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এর উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র এবং নদীনির্ভর পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে হওয়া আবশ্যক বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ (আরএএস) প্রযুক্তিতে ইলিশ চাষের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তবে আজ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। কৌশলগত দিক পর্যালোচনা শেষে উপযুক্ত মনে হলে সরকারের কাছে অনুমোদনের আবেদন করা হবে। অনুমোদনবিহীন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না বলেও প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইলিশ-সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা বা পরীক্ষামূলক উদ্যোগ অবশ্যই বিদ্যমান আইন ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে হতে হবে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের অনুমোদিত তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.