এলপিজি অটোগ্যাসের সংকটে বন্ধ প্রায় সব স্টেশন, ১৫ হাজার টন সরবরাহের দাবি

এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলপিজি চালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, গাড়ির মালিক ও চালকরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক যানবাহন এবং যাত্রীসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ, এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথচ এই পরিমাণ এলপিজি গ্যাস স্টেশনে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো অটোগ্যাস খাত আজ বিপর্যয়ের মুখে।

বিইআরসি কাছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অনুরোধ জানায়, এ খাতে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে মোট এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় কিনা। এই ন্যূনতম সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই শিল্প ধ্বংস হলে প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। বাধ্য হয়ে তারা এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা দেশের জ্বালানি ভারসাম্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একইসঙ্গে এতে হাজার হাজার অটোগ্যাস স্টেশন মালিক ও কর্মচারী সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

তারা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানান সেগুলো হচ্ছে, অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, চলমান সংকটকালে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুরক্ষা দেওয়া।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.