নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে সংঘাতের আশঙ্কার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে আরও তিনটি হামলার খবর জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজের ওপর হামলা প্রায় রেকর্ড গতিতে অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তেলের দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

ম্যাকন্যালি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে ইরানের সরকারও তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয়। দুই পক্ষের মধ্যে এই মৌলিক মতপার্থক্য দূর না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে মূল মতপার্থক্য দূর না হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। ফলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের বিষয়টি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

ম্যাকন্যালির এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন লম্বার্ড ওডিয়েরের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যামি চার এবং প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ কৌশল বিভাগের প্রধান লুকা বিনদেল্লিসহ আরও কয়েকজন বিশ্লেষক।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.