পুঁজিবাজারে বেশ কিছু বড় বিনিয়োগকারীর অবরুদ্ধ বিও হিসাব আংশিক খুলে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে, এসব বিও হিসাবে শেয়ার কেনা-বেচা করা যাবে। কিন্তু পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে কোনো একাউন্টে মার্জিন থাকলে তা সমন্বয় করা যাবে।
বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৎকালীন কমিশন বেশ কিছু বড় বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এসব হিসাবের মাধ্যমে বাজারে কারসাজি করা হয়েছে অথবা অনেক হিসাবে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ রয়েছে এমন সন্দেহ থেকে হিসাবগুলো বন্ধ রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে এসব হিসাব থেকে কেউ টাকা সরিয়ে নিতে না পারে। এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা ৫শর বেশী।
বিপুল সংখ্যক বিও হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হিসাবগুলোর মাধ্যমে লেনদেন করতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের তহবিল আটকে যায়। লেনদেনে এই তহবিলের অংশগ্রহণের অভাবে বাজারে লেনদেনও কমে যায়। এ অবস্থায় বাজার সংশ্লিষ্টরা অনেক দিন ধরে শর্তসাপেক্ষে এসব বিও একাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ধীর গতি, দেশের ভেতরে জ্বালানি-বিদ্যুতের সংকটসহ নানা কারণে পুঁজিবাজারে তীব্র মন্দা দেখা দেওয়ায় অবরুদ্ধ একাউন্টগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়টি আবার জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে আসে। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে বাজারে টানা দর পতন হয়েছে। বেশিরভাগ দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার নিচে থাকছে। এমন বাস্তবতায় বাজারে তারল্য বাড়িয়ে লেনদেনে গতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে একাউন্টগুলো আংশিক চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.