ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, হারুন-অর-রশিদ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার পাশাপাশি ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি।
এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে পুলিশ অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। পরে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ০০৫/২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর গত ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু এবারও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। গত ১ অক্টোবর কমিশন তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়।
বিভাগীয় মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
কীওয়ার্ড: মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ, ডিএমপি, পুলিশ, বরখাস্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় মামলা, পুলিশ অধিদপ্তর, ডিআইজি, সরকারি কর্মচারী, সরকারি কর্ম কমিশন, তদন্ত প্রতিবেদন, প্রজ্ঞাপন



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.