মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে মেঘনা ব্যাংক। বন্ডটি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে।
সাত বছর মেয়াদি এ বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। এতে ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেঘনা ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখার পাশাপাশি টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যাংকটির দাবি, এ অর্থায়ন শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪০০ কোটি টাকার বন্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পেয়েছে। এর কুপন রেট পরিবর্তনশীল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে বন্ডটির রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং মার্জিন ৩ শতাংশ। রেফারেন্স রেটের পরিবর্তনের সঙ্গে ভবিষ্যতে বন্ডটির কুপন রেটও পরিবর্তিত হবে।
বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা
মেঘনা ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন।
বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হতে পারে।
ব্যাংকটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রযোজ্য আয়কর আইন ও শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্তির সুবাদে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুযোগ পেতে পারেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই এবং বিনিয়োগের পৃথক সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত নেই বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
মেঘনা ব্যাংকের দাবি, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এ বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ব্যাংকটির উল্লেখ করা মেয়াদি আমানতের হারের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।
ছয় মাস অন্তর মুনাফা, তৃতীয় বছর থেকে মূলধন ফেরত
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ডের বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন। তৃতীয় বছর শেষে মূলধন ফেরত দেওয়া শুরু হবে। এরপর শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে।
মেঘনা ব্যাংকের মতে, দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.