সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও জাল চালান ব্যবহার করে ঋণের অর্থ তুলে নেওয়ার পর তা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও অ্যারামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ।

এ ছাড়া মামলায় ব্যাংকটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং অ্যারামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) এ কে এম মারুফকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যারামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন অ্যারামিট গ্রুপের কর্মচারী ও এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী দেখানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া বিল ও জাল চালান তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এসব নথির ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ২৭টি মুরাবাহা চুক্তির বিপরীতে মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে দুদক, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করে। পরে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের দল অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব নেয়। এ তদন্তের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.