হুথিদের হুমকি, আরামকোর সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরানোর নির্দেশ
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয় ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের উপসাগরীয় উপকূলের ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আরামকো।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবে সম্প্রতি হুথিদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় আরামকোর স্থাপনা ও দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালায় হুথিরা। এতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে সৌদি আরব হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেন, তাঁদের বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা এবং রাজধানী রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা রাজধানী রিয়াদ ও পবিত্র নগরী মদিনার আকাশে কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। মদিনার কাছেই অবস্থিত ইয়ানবু শহর।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এতে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
এদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অস্থিরতা বাড়লে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.