রিকশা পেইন্টিংকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিলের সমঝোতা চুক্তি

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা পেইন্টিংকে বিশ্বমঞ্চে আরও অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তুলে ধরতে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৭ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় ইউনেস্কোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চুক্তিতে ইউনেস্কোর পক্ষে অফিস প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের পক্ষে প্রধান কৌশলগত পরিকল্পনাবিদ সুমন পাটওয়ারী স্বাক্ষর করেন।

“রিকশাচিত্র একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যা শিল্পীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় টিকে আছে। এই শিল্পধারাকে বাঁচিয়ে রাখার মূল শক্তি শিল্পীরাই। ইউনেস্কো ও উইন্ডমিলের এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা শিল্পীদের জীবন ও জীবিকায় সহায়তা করব এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের দক্ষতা পৌঁছে দিতে সাহায্য করব, যেন এই ঐতিহ্যের চর্চা ও বিকাশ অব্যাহত থাকে,” বলেন ড. ভাইজ।

সুমন পাটওয়ারী বলেন, “এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রিকশাচিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি করতে চাই। সৃজনশীল যোগাযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন বাজারের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে রিকশাচিত্রকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ২০২৩ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এই স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় রিকশাচিত্রের সমৃদ্ধ ইতিহাস, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সুরক্ষার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড।

এই অংশীদারত্বের আওতায় ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপ্যান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ শীর্ষক একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে রিকশা পেইন্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজন, রিকশা পেইন্টিংয়ের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণ, বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে শিল্পীদের সংযুক্ত করা এবং প্রদর্শনী ও প্রচারণার মাধ্যমে এই শিল্পধারাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্পীদের জীবিকায় সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশের রিকশাচিত্রে ফুটে ওঠা সৃজনশীলতা, গল্প ও চিত্রভাষাকে তুলে ধরাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো ঢাকার সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিন, প্রোগ্রাম সহকারী বিপাশা ত্রিপুরা এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের অপারেশন ও ক্লায়েন্ট সার্ভিস ম্যানেজার মোঃ মতিউর রহমান রাব্বি।

এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় ইউনেস্কোর কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে সৃজনশীল যোগাযোগ, জনসচেতনতা, ডিজিটাল প্রচার ও সক্ষমতা উন্নয়নে উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের অভিজ্ঞতা। এই যৌথ কাজের আওতায় শিল্পীদের জ্ঞান ও দক্ষতা নথিবদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.