ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী ya ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একই সময়ে ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের কৌশলগত আল-ওয়াজিয়া এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে পুনর্দখলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান।
তুর্কি আল-মালিকি বলেন, জোটের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করে এবং আকাশেই সেটি ধ্বংস করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইয়েমেনের রাজধানী সানার আকাশসীমা থেকে ছোড়া হয়েছে বলেও শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মূল উৎসমুখ শনাক্ত করার পর সেখানে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই উৎসমুখের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
এদিকে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া জেলা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এই এলাকা হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় তারা।
সরকারি বাহিনীর ভাষ্য, আল-ওয়াজিয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দব প্রণালির আশপাশে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দবের নিরাপত্তার দিক থেকেও এলাকাটির সামরিক গুরুত্ব রয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুথি বিদ্রোহীরা। পরে তারা নিজেদের সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানের কারণে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। দেশটির সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.