চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড’ শীর্ষক পিপিপি প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এনসিটি ও এর সঙ্গে যুক্ত ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে। এ জন্য যে রেয়াতি বা কনসেশন চুক্তি সই হবে, তার খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদিত প্রস্তাবে বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে টার্মিনালটি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পিপিপি ও জিটুজি কাঠামোয় এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা দর-কষাকষির পর্যায়ে পৌঁছালেও শ্রমিক আন্দোলন ও আলোচনা কমিটির সদস্যদের আপত্তির কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার আলোচনা শুরু হয়। গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এ টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
এনসিটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনাল পরিচালনা করবে।
বন্দরের অন্য তিনটি টার্মিনালের মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশীয় অপারেটররা পরিচালনা করছে। আর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.