বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের যেসব বিনিয়োগকারী ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে ডিএসইতে অভিযোগ দাখিল করেছেন, তাদের যাচাইকৃত প্রাপ্য অর্থ ডিএসই ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং তাদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন বিনিয়োগকারীর মধ্যে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিনিয়োগকারীদের হাতে চেক তুলে দেন।
ডিএসই এ তথ্য গণমাধ্যমকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার মোঃ নাফিজ আল তারিক সিএফএ, হোসাইন সাদাত, এফসিএস, ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, আইপিএফ ফান্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসরীন বেগম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ডিবিএর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, ডিএসই’র সিনিয়র সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, আজকের দিনটি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও স্বস্তির দিন। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা সমাধানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আজকের এই অর্থ পরিশোধ সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। একই সঙ্গে আমি আশা করি, পর্যায়ক্রমে সকল যাচাইকৃত বিনিয়োগকারীর প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাক-অফিস ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী, সুরক্ষিত এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সিসি অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীদের অর্থের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার যুগে এ ধরনের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির কোনো বিকল্প নেই।
চেয়ারম্যান মাসুদ খান আরও বলেন, আজকের উদ্যোগটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টার ফল নয়; বরং বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ফল। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাব।
তার আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত পাওনা অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হওয়া ডিএসই ও দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও স্বার্থ সুরক্ষা একটি সুশৃঙ্খল ও টেকসই পুঁজিবাজারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে ১৭,৩০০ জনেরও বেশি যাচাইকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করা হবে। যাদের সম্পূর্ণ পাওনা এই পর্যায়ে পরিশোধ সম্ভব হবে না, তাদের অবশিষ্ট অর্থ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত পরিশোধে ডিএসই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার নাফিজ আল তারিক বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি সংস্কার, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হোসেইন শাদাত বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়; এর যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং পুঁজিবাজারে আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য আজকের উদ্যোগ একটি স্বস্তির বার্তা।
তিনি আরও বলেন, ব্রোকারেজ কমিউনিটির অবদানে গঠিত ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানো পুঁজিবাজারে পারস্পরিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি তাদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড) রেগুলেশনস, ২০১৪-এর ১৬ (৭) অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মোট ৯,৩৮৬ জন বিনিয়োগকারীর দাবির বিপরীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মোট ৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পরিশোধ করবে। পর্যায়ক্রমে একই আইনের আওতায় বাঙ্কো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কো. লিমিটেড, মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত দাবির অর্থও ফেরত প্রদান করা হবে। এ সংক্রান্ত অগ্রগতি ও অর্থ ফেরত প্রদানের সময়সূচি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ডিএসই’র পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.