শ্রেণিকৃত ঋণের প্রস্তাবিত বিশেষ এক্সিট সুবিধা, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়িক স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক সার্কুলার জারির আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর পরামর্শের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আইবিএফবির সম্মেলনকক্ষে ‘শ্রেণিকৃত ঋণের বিশেষ এক্সিট সুবিধা: খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব ও ঋণশৃঙ্খলার ভারসাম্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আহসান হাবিব। প্রস্তাবিত বিশেষ এক্সিট সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, ব্যবসার স্থায়িত্ব এবং ঋণশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্যের ওপর গুরুত্ব দেন।
আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট লুৎফুন্নিসা সৌদিয়া খান উদ্বোধনী বক্তব্যে নীতিনির্ধারক, ব্যাংক, ব্যবসায়ী সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বৈঠকে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, আইডিএলসির চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার, ব্যাংক এশিয়ার উপদেষ্টা মো. আলী রেজা ইফতেখার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মাজুমদার, সিটি ব্যাংকের প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আলম, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ শামস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ অংশ নেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ, আইইউবির অধ্যাপক ড. মো. মামুন হাবিব, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন রশিদ, বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. মোহাম্মদ হাতেমসহ বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
মুক্ত আলোচনায় সুশাসন, ন্যায়সংগত কার্যক্রম, ঋণ পুনরুদ্ধার, আইন প্রয়োগ এবং যৌক্তিক ঋণ পুনঃতফসিলের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী শ্রেণিকৃত ঋণ পুনরুদ্ধারে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঋণ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, ব্যবসায়ী সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। ব্যাংক এশিয়ার উপদেষ্টা মো. আলী রেজা ইফতেখার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সার্কুলার জারির আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হলে বাস্তবভিত্তিক চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও ঋণশৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। খেলাপি ঋণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান তৈরিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.