বীমা পলিসি বিক্রিতে ব্যাংক, ব্রোকার ও এজেন্টদের দেওয়া কমিশনে সীমা আরোপের প্রস্তাব করেছে ভারতের বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইআরডিএআই। নিয়ন্ত্রকের দাবি, এর ফলে বীমা বিতরণ ব্যয় কমতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদের জন্য পলিসির খরচও কমার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এতে বীমা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমতে পারে।
বুধবার রাতে প্রকাশিত একটি আলোচনাপত্রে এসব সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পর আগামী ২৫ অক্টোবরের পর এগুলো পরিবর্তন হতে পারে।
ভারতের বীমা খাতে কমিশন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। আইআরডিএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো কমিশন বাবদ ৬০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। বিপরীতে একই সময়ে বীমা প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
প্রস্তাবিত সংস্কারে বিভিন্ন ধরনের বীমা পণ্যে কমিশনের সর্বোচ্চ সীমা পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের কমিশন সীমা তুলে দেওয়া হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় সহজ বীমা পণ্য বিক্রিতে তুলনামূলক কম কমিশন এবং জটিল পণ্যে বেশি কমিশনের সুযোগ রাখা হবে।
জীবন বীমায় ব্যাংক ও ব্রোকারদের প্রথম বছরের প্রিমিয়ামের ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু পণ্যে এই হার ৪০ শতাংশেরও বেশি। স্বাস্থ্য বীমায় প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং নবায়নে ৫ শতাংশ কমিশনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে এই কমিশন ৩০ শতাংশের বেশি।
নতুন গাড়ির বাধ্যতামূলক তৃতীয় পক্ষের মোটর বীমায় কোনো কমিশন না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পুরোনো গাড়ির নবায়নে সীমিত কমিশনের সুযোগ থাকবে। তবে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে বীমা বিক্রিতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইআরডিএআই বলছে, বীমার প্রিমিয়ামের মধ্যেই কমিশনসহ বিতরণ ব্যয় যুক্ত থাকে। ফলে কমিশন কমলে ভবিষ্যতে গ্রাহকের পলিসির খরচ কমার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সাশ্রয় পুরোপুরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
প্রস্তাবিত সংস্কারে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে বীমা কেনার শর্ত জুড়ে দেওয়ার পথও বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যাংক বীমা নেওয়ার শর্তে কম সুদের ঋণ দিতে চাইলে বীমা ছাড়া ও বীমাসহ উভয় ধরনের সুদের হার জানাতে হবে এবং গ্রাহককে যেকোনো বীমা কোম্পানি থেকে পলিসি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
সংস্কারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ব্যাংকনির্ভর জীবন বীমা বিক্রি ও বীমা বিতরণ ব্যবসায়। বিশ্লেষকদের মতে, এতে প্রচলিত এজেন্ট ও ব্যাংকের মাধ্যমে বীমা বিক্রির কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে কিছু বীমা কোম্পানি ও মোটর বীমা-সংশ্লিষ্ট ব্যবসাও স্বল্পমেয়াদে চাপের মুখে পড়তে পারে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.