হয় সবাই নিরাপত্তা গড়ে তুলব, নয়তো সবাই নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবো: জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না, তবে তারা “পারমাণবিক বিজ্ঞান” এবং “শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি” ত্যাগ করবে না। পারমাণবিক জ্ঞানে কেবল কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার আছে – এটা ইরান মানে না। ইরান তার নিজস্ব জলসীমায় নৌপরিবহন তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে দেবে না।

পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যের শুরুতে মিনাব স্কুলের হামলায় নিহতদের প্রসঙ্গ, স্টেডিয়ামে বোমা হামলা এবং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেকে “রক্ষা” করছিল। যখন আপনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করেন, তখন তারা সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘অঞ্চলের অনিরাপত্তা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করে।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ করতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পারমাণবিক বোমা ইসরায়েলের কাছে আছে, কিন্তু পরিদর্শকরা রয়েছে ইরানে। ইসরায়েলের নিজস্ব পারমাণবিক বোমা রয়েছে, কিন্তু কখনও সেটি পরিদর্শন করা হয়নি। অথচ তারা ইরানকে পরিদর্শন করছে। ইসরায়েল মানুষ হত্যা করে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে তেহরান সরে আসবে না।

গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এটিকে “আধিপত্যবাদী আচরণ” এবং “দম্ভের” বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, এই হুমকি ইরানি জাতিকে “আরও ঐক্যবদ্ধ” করে তোলে এবং ইরান আগ্রাসীদের এ জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, এই অঞ্চলে কেউই এককভাবে নিরাপদ থাকবে না। হয় আমরা সবাই মিলে নিরাপত্তা গড়ে তুলব, নয়তো সবাই মিলে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবো।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.