লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সোমবার রাতে মোখায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় সৌদি বিমান বাহিনী। এতে ছয়জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে সৌদি আরব। হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গোষ্ঠীটির সামরিক ও রসদ সরবরাহের স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতি নেতৃত্ব।
হুতি হাইকমান্ডের দাবি, ১১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে সৌদি বিমান বাহিনী প্রায় ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি বাহিনীর বিমান অভিযান ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এরই মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতি বাহিনী। এ ঘটনায় বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনাতেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলা চালিয়েছে হুতি বাহিনী। এসব হামলায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে হুতি যোদ্ধারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ সৌদি আরবের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। ফলে এই জলপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.