মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। জাতীয় প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, অঞ্চলটিকে তাদের ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক উপস্থিতি’ থেকে মুক্ত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পশ্চিমা আধিপত্যের কাঠামো ভেঙে দিয়েছে। আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে চলমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও আমদানি কার্যক্রম সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানি-জাদেহ জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে সরকার। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের মধ্যে দেশটি সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তুরস্কসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের পরিমাণও বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরানের বিমান পরিবহন খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ইরানের বিমান খাতের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের বিমান খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, জনবল ও নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করছে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও পড়তে শুরু করেছে। দেশটির বড় এয়ারলাইন মাহান এয়ার তুরস্ক ও ওমানের কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বক্তব্য এসেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অনিচ্ছাকৃত।
তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প সমালোচনা করতে পারেন বলে ওয়াল্টজ জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংঘাত দেশটির জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিমান পরিবহন খাতে নতুন চাপ তৈরি করছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.