দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেশে আনা হবে।
রোববার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রিপ্রোড্রাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভ্যারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারীদের হরমোনজনিত ও বিপাকীয় সমস্যা পলিসিসটিক ওভারি সিনড্রোমের কারণে দেশে বন্ধ্যাত্বের হার বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুতই চীনসহ আধুনিক দেশগুলোর প্রযুক্তি দেশে আনতে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে।
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ। কোনো দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে না পারলে, অনেক সময় সামাজিক কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই।
দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, দেশের মেধাবী চিকিৎসকেরা সক্ষম হলেও অনেক রোগী ভারত ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে যান, ফলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। বিদেশের সমমানের চিকিৎসা দেশে সম্ভব, এমন আস্থা তৈরি করতে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় থাকা নারীদের দেশে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হবে। শতকরা ৮০টি ক্ষেত্রেও যদি আমরা সফল হই, সেটিই দেশের জন্য বড় সাফল্য।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রশংসা করে সাখাওয়াত হোসেন জানান, তাদের সহযোগিতা পেলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.