মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে ক্যাম্প ডেভিডের অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আগাম ফিরে আসার বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো কারণ জানায়নি।
মেরিল্যান্ডের নিরিবিলি ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ক্যাম্প ডেভিড মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবকাশযাপনের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি স্থান। শনিবার সেখানে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করে ওয়াশিংটনে ফেরেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ফেরার সময়ের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনাপ্রবাহ মিলে গেলেও তাঁর আগাম ফেরার কারণ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
হুতিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি স্থাপনার এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। হুতিরা রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। সৌদি পক্ষের ভাষ্য, রিয়াদ ছাড়াও আরও কয়েকটি এলাকায় হুতিদের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। সম্ভাব্য বিমান চলাচল বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে এবং অতীতে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
জুলাই থেকে ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সমর্থনে সামরিক অভিযান চালানোর পর হুতিরাও সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.