উত্তর কোরিয়ার নৌবহরে যুক্ত হয়েছে পরমাণু বোমা নিক্ষেপে সক্ষম নতুন একটি ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ। সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওনসানে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে কমিশন করা হয়।
নতুন এই ডেস্ট্রয়ারের নাম কাং কন। উত্তর কোরিয়ার দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগ ও প্রযুক্তিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ জানিয়েছে, কমিশনিং অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু ও মেয়ে জু-আয়েসহ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন ডেস্ট্রয়ারটিকে ‘অপরিহার্য আক্রমণাত্মক ডেস্ট্রয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, জাহাজটি উত্তর কোরিয়ার ‘রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার’ অংশ।
মঙ্গলবার পূর্ব চীন সাগর বা কোরিয়া প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’ শুরু হওয়ার কথা। এর ঠিক আগের দিন পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এই ডেস্ট্রয়ারকে নৌবহরে কমিশন করল উত্তর কোরিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারের লক্ষ্য হওয়া উচিত শত্রুদের বিরুদ্ধে মারাত্মক প্রতিশোধমূলক আঘাত হানা। কারণ, এটি এখন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।
দেশটির নৌবাহিনীকে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও স্পষ্টভাবে পরিচালনার জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন কিম জং উন।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাং কনকে উত্তর কোরীয় নৌবাহিনীর পূর্ব সাগর নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এটি উত্তর কোরীয় নৌবাহিনীর দ্বিতীয় ডেস্ট্রয়ার। এর আগে মাত্র তিন মাস আগে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম ডেস্ট্রয়ার চোয়ে হিয়ন কমিশন করা হয়। ওই যুদ্ধজাহাজটির ওজনও ৫ হাজার টন।
কমিশন করার পর চোয়ে হিয়নকে উত্তর কোরীয় নৌবাহিনীর পশ্চিম সাগর নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.