আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, ইন্দোনেশিয়ায় বিমান চলাচল ব্যাহত

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে দেশটির সাতটি বিমানবন্দর এখনো বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শুক্রবার রাতে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এরপর থেকে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাতের পাশাপাশি লাভা উদ্গীরণ ও ব্যাপক ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। রোববার ছাইয়ের কারণে জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সোয়ের্নো-হাত্তা ও আরও কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাই জাভা দ্বীপের দিকে প্রায় ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রার দিকে ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ছাই আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীরা আটকা পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য খাবার, সাময়িক থাকার ব্যবস্থা ও বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা করছে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় বিমান চলাচল কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে কয়েকটি এলাকায় স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ছাইয়ের কারণে চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জাকার্তা ও লাম্পুংয়ের শিক্ষার্থীদের সোমবার থেকে অনলাইনে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরে বের হলে মাস্ক ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রার মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। ২০১৮ সালে এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। তবে এবারের অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আনাক ক্রাকাতোয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি আগ্নেয়গিরি সতর্কতা স্তর-৩-এ রয়েছে। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.