চীন-নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং বন্দর এখন ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নয়। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার স্রোতে পুরো সীমান্তকেন্দ্রটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। চীনের অংশে ৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও এখনো নিখোঁজ ৫১৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে। একসময় পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ত যাতায়াতের কেন্দ্র গিরং বন্দরে এখন পড়ে আছে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। পাঁচতলা সীমান্ত ভবন, সড়ক ও সেতুরও প্রায় কোনো চিহ্ন নেই।
উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও গ্রাউন্ড রাডার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী থেকে আঙুলের ছাপ, জেনেটিক তথ্যসহ বিভিন্ন উপায়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ কাজে ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ও তিনটি পরীক্ষাগার কাজ করছে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভারী বৃষ্টি এবং নতুন ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হওয়া অস্থায়ী জলাধার ভেঙেও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ধীরগতি নিয়ে স্বজন ও কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে জানানো হয়েছে এবং উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
চীন ও নেপাল মিলিয়ে এই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.