অবতরণের সময় সড়কে ছিটকে পড়ল কার্গো বিমান, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে ছাড়িয়ে পাশের সড়কে উঠে পড়ে একটি কার্গো উড়োজাহাজ। পরে এটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার কিছু আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে ছেড়েছিল। অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের পাশের সড়কে চলে যায় এবং সেখানে থাকা কয়েকটি গাড়িতে আঘাত করে।

মিয়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা উড়োজাহাজের যাত্রী ছিলেন, নাকি সড়কে থাকা গাড়িগুলোর আরোহী—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলটও ককপিটে আটকা পড়েছিলেন।

মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের। এটি অ্যামাজনের প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ এবং উড়োজাহাজটি পরিচালনা করছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এয়ারলাইন ২১ এয়ার।

দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক আগুন ও ধোঁয়া দেখা দেয়। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউর ৬০টির বেশি ইউনিট এবং প্রায় ২০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনাস্থলে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পরে কয়েকটি রানওয়ে পুনরায় চালু করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইটে বিলম্ব হয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে এফএএ ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। উড়োজাহাজটির দুর্ঘটনার কারণ ও অবতরণের সময় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.