ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠকের পর এবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পথে রওনা হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তাদের ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করেন উইটকফ ও কুশনার। বৈঠক শেষে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ এটিকে অত্যন্ত কার্যকর ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে আলোচনায় কোনো তাৎক্ষণিক চুক্তি বা বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, এর মূল কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। মার্কিন প্রতিনিধিরা পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় পাওয়া রুশ অবস্থান ও মূল্যায়ন এবার জেলেনস্কির সামনে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, উইটকফ ও কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবটির বাস্তব রূপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মার্কিন দূতদের সফর ঘিরে কিয়েভ ও মস্কোতে সাময়িক হামলা বিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুতিন কিয়েভে ৭২ ঘণ্টার জন্য হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর চলাকালে ইউক্রেন মস্কোর ওপর হামলা থেকে বিরত থাকবে।
তবে এই বিরতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির সমতুল্য নয়। ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রুশ হামলা এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় হামলার ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সাময়িক এই বিরতিকে মূলত কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, কিয়েভের দুটি বিমানবন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের আকাশসীমা বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ থাকায় বিদেশি প্রতিনিধিরা সাধারণত পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান।
শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার মার্কিন উদ্যোগের মধ্যেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া দখলকৃত ভূখণ্ডের বিষয়ে নিজেদের দাবি এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেনি। অন্যদিকে কিয়েভ রুশ দখলকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের আগে নিজেদের ভূখণ্ডের বিষয়ে ছাড় দিতে অনিচ্ছুক।
এ কারণে পুতিনের সঙ্গে উইটকফ-কুশনারের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হলেও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তির পথ এখনো পরিষ্কার হয়নি। এখন কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় রুশ অবস্থান কতটা গ্রহণযোগ্য হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের মতপার্থক্য কতটা কমাতে পারে—সেটিই নতুন এই শান্তি উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.