সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি আন্তর্জাতিক এ মঞ্চে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাস্তবায়নকেন্দ্রিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত দেওয়া, বৈদেশিক অর্থায়ন ব্যবস্থা সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া তৈরি, ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত বছর প্রকাশ্যে ঘোষণা করা বিভিন্ন অঙ্গীকারের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এর ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার এই চর্চাকে তিনি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
কমিশনের অধিবেশনে বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনার প্রধান ভিত্তি ছিল জাতিসংঘের ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার বাস্তবায়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন’। এতে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনায় দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নে দেশের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সহজীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার, ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ উন্নয়নে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিশ্ব বিনিয়োগের সামগ্রিক পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের অবস্থানের ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে ‘ইউএনসিটিএডি বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬’-এ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম অল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও গতিশীল করেছে বলে ইউএনসিটিএডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন করেছে।
এর ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বসংক্রান্ত কার্যক্রম এখন একটি সংস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.