মুসলিম দেশগুলোর বিপুল জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের তুলনায় তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই ব্যবধান কমাতে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার তেহরানে অনুষ্ঠিত ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্যদেশ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্থল ও সমুদ্রপথের কেন্দ্রে অবস্থিত। এসব দেশের রয়েছে বিপুল জ্বালানি সম্পদ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বড় ভোক্তা বাজার।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এটি বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, শুধু অর্থনীতির আকার নয়, ওআইসি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণও প্রত্যাশার তুলনায় কম। সদস্যদেশগুলোর মোট রপ্তানির মাত্র ১৯ শতাংশ অন্য ওআইসি সদস্যদেশগুলোতে যায়। বাকি ৮১ শতাংশ রপ্তানি হয় ওআইসির বাইরের দেশগুলোতে।
এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। তার মতে, পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলো নিজেদের বিশাল বাজার ও সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।
পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর জনসংখ্যা ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.