২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু হবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে; কোনও বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
সোমবার (২৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে ‘একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা’ জারি করা হয়। নীতিমালায় ভর্তির যোগ্যতা, বিভাগ নির্বাচন, কোটা, মেধাক্রম, ফি এবং অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং ধারাবাহিকভাবে তার আগের দুই বছরে দেশের যেকোনও শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোনও বোর্ড বা সমমানের প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সনদের মান নির্ধারণ করার পর ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে। ভর্তির জন্য কোনও কলেজ আলাদাভাবে বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা নিতে পারবে না। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের যেকোনও একটিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আবেদন করতে পারবে। এছাড়া বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা- যেকোনও বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগের যেকোনও একটিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভাগ নির্বাচনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপতর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দুই শতাংশ কোটা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। ফলে মোট ৭ শতাংশ আসন নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত থাকছে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। যোগ্য মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা না পাওয়া গেলে ওই আসন মেধা তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই আসন শূন্য রাখা যাবে না। তবে এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে সমান নম্বর হলে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।
স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে নিজ নিজ বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার পর অবশিষ্ট আসনে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যাবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সব ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি ঘোষণা করবে। সব অনুমোদিত কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন অনলাইনে করতে হবে। কোনও প্রতিষ্ঠান বোর্ড নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।
বেসরকারি কলেজগুলোকে ভর্তি শুরুর আগেই ভর্তি ফি, মাসিক বেতন ও অন্যান্য খরচের তালিকা নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। বোর্ড অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনও অর্থ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া যাবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও শিক্ষার্থীর মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট আটক রাখা যাবে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.