ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন এই একক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বে বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কার্যক্রম আরও সমন্বিত করার দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখা যাবে না। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এর আগে আশিক মাহমুদ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন।

একীভূত হলো তিন কর্তৃপক্ষ

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে সেবা সহজ ও দ্রুত করতে বিডা, বেজা এবং পিপিপিএকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ পাস হয় ১৫ জুলাই। পরে ২০ আগস্ট গেজেটের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হলে নতুন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

নতুন কর্তৃপক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর আওতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগ নিবন্ধন ও অনুমোদন, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং পিপিপি প্রকল্প-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে।

এক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগসেবা

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য একক বা ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা ব্যবস্থা তৈরি করা। নতুন কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অনুমোদন, লাইসেন্স, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরও সমন্বিতভাবে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইনে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার বিধানও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করার পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের সুপারিশ, বিনিয়োগ চুক্তিতে সহায়তা, শিল্প জমি বরাদ্দ এবং সরকারি অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতাও নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় রাখা হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একীভূত হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও দ্রুত ও সমন্বিত হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.