ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখলে তৃতীয় দেশগুলোকেও কঠোর মার্কিন পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে এ হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে নতুন পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট ধরন বা কোন কোন দেশ এর আওতায় পড়বে, তা তিনি জানাননি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থা ইরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমার বদলে অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকি আরও বাড়ছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ শুরু করে ওয়াশিংটন। এবার সেই চাপ আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির আগের দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এর আগে ইরান আমিরাতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি চাপ এখন আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি স্বাভাবিক সময়ে এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এর ওপর জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি মার্কিন ভোক্তাদের ওপর বাড়তে থাকা মূল্যচাপও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.