হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগের পাঁচ মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে জামিন দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দীপু মনির অন্যতম আইনজীবী রমজান আলী শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
রমজান আলী শিকদার জানান, পাঁচটি মামলায় হাইকোর্টে দীপু মনির জামিন আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত এসব মামলায় রুল জারি করেন। এজাহারে তার সুনির্দিষ্ট নাম না থাকা, প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে দুটি মামলায় হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি জামিন দিয়েছেন। এছাড়া আরও ১৮টি মামলায় জামিনের বিষয়ে রুল জারি হয়েছে।
ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দলটি বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে দীপু মনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি এবং সহিংসতায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। চিকিৎসাশাস্ত্র ও আইনে ডিগ্রিধারী দীপু মনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তী মেয়াদে তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তার মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.