পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিরোধ সক্ষমতা পরীক্ষা করতে রাশিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জোটটির কোনো সদস্য দেশে সীমিত হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এখন থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যেকোনো সময় পূর্ব ইউরোপে সীমিত স্থল অভিযান কিংবা সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারে মস্কো। এর আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্য কোনো দেশে হামলার ঝুঁকি নেবেন না। তবে নতুন মূল্যায়নে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো কিংবা ইউক্রেনকে দায়ী করে সাজানো হামলার পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার তৎপরতার আভাস পেয়েছে ইউরোপীয় ও মার্কিন গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি পোল্যান্ডে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার ঘটনা এবং গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী একটি ড্রোন পাওয়ার পর ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে রুশ হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। জার্মান বিমানবন্দরে পাওয়া ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল অস্ত্র বহনকারী একটি ইউক্রেনীয় বিমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস সতর্ক করে বলেন, বাল্টিক দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। তার অভিযোগ, ইউরোপের মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করতেই মস্কো এ ধরনের ‘সাজানো’ হামলা চালাতে পারে।
একই দিনে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও রাশিয়ার সম্ভাব্য উসকানি নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রুশ তৎপরতার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা ‘বড় কোনো বিপদের সামান্য একটি অংশ’ মাত্র। এ সময় তিনি গত মাসে প্লাইমাউথের কাছে ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজ ‘নিউস্ট্রাশিমি’র গোলাবর্ষণ মহড়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে এসব গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্ভাব্য ঝুঁকির পূর্বাভাস; রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য হিসেবে এগুলোকে দেখা হচ্ছে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.