জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, গণমানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম জুলাই, যা জাতির ঐক্য ও সাহসের প্রতীক।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে ড. ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়; এটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, পথচারী, রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, রিকশাচালক, শ্রমজীবী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। যুদ্ধাবস্থার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও চিকিৎসকেরা আহতদের জীবন রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি জুলাই আন্দোলনে নারীদের সাহসিকতার বিশেষ প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, নারীদের এই অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব আগামী দিনের তরুণদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য কাঠামোকেও পরিবর্তন করা সম্ভব। তিনি গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.