ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন করে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে সংঘটিত এ হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হাতে বর্তমানে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো কার্যকর ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট নেই।
জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩৫টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ২৭টি ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ১৮৫টি ড্রোন। পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না থাকায় ইউক্রেন মাত্র একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে প্রতিটি রাতেই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ চললেও রাশিয়ার অগ্রযাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা ধীর হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি স্থাপনা, রসদ ঘাঁটি ও অস্ত্র কারখানায় হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া কিয়েভসহ বিভিন্ন ইউক্রেনীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। যদিও দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
শনিবারের হামলাটি চলতি সপ্তাহে কিয়েভে দ্বিতীয় বড় হামলা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার আরেক দফা হামলায় ৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য ছিলেন।
সর্বশেষ হামলায় কিয়েভের অন্তত সাতটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮টি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল এবং লিথুয়ানিয়ার দূতাবাস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.