মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমে যাওয়ার খবরে জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক মানের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭০ ডলার বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮৬ দশমিক ৭৯ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার আশা অনেকটাই কমে গেছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে যৌথ হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে ইরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব’ বলে মন্তব্য করেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তবে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে ওমান হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দেয়। তবে তেহরান বুধবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যতদিন অস্থির থাকবে, ততদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, আলোচনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা এখনই নেই। এমনকি উত্তেজনা কমলেও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা সীমিত।
অন্যদিকে, মার্কিন পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। বুধবার এ বিষয়ে সরকারি তথ্য প্রকাশ করবে দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।
এ ছাড়া রয়টার্সের সূত্র বলছে, স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর কর্মসূচি থেকে ধাপে ধাপে সরে আসার পর অক্টোবর থেকে টানা তিন মাস ওপেক প্লাস জোট তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখতে পারে। এ সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বাড়তি সমর্থন দিচ্ছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.