প্রবল বৃষ্টির কারণে বাড়ির ছাদ-দেওয়াল ধস এবং বন্যা, বজ্রপাতের মতো বর্ষাকালীন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে জুনের ২৬ তারিখ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এক মাসে পাকিস্তানে ১০৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এনডিএমএ গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ায়— ৫৫ জন। তার পরেই আছে পাঞ্জাব— ৩৬ জন। এছাড়া গত এক মাসে বৃষ্টি ও বর্ষাকালীন দুর্যোগে আজাদ কাশ্মিরে ৭ জন, বেলুচিস্তানে ৬ জন, সিন্ধে ২ জন এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানে ১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এনডিএমএর বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, যে ১০৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে, তাদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ অতিবর্ষণের কারণে বাড়ির ছাদ বা দেওয়াল ধস।
বর্ষাকালে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করতে জুলাই মাসের ইমার্জেন্সি রেসপন্স কমিটি (ইআরসি) গঠন করেছে এনডিএমএ।
গতকাল এনডিএমএ সদর দপ্তরে ইআরসির বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে ইআরসির সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এনডিএমএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ড. মুসাদিক মালিক এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী রানা তানভীর হুসাইন ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে পাকিস্তানের দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা এবং প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনডিএমএর চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার মালিক।
উল্লেখ্য, পৃথিবীর যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্মম শিকার— সেসবের মধ্যে প্রথম সারিতে আছে পাকিস্তান। প্রতি বছর বর্ষাকালে দেশটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.