ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মেঘমল্লার বসুর পদত্যাগ

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মেঘমল্লার বসু। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাঈন আহমেদও।

শনিবার (২৫ জুলাই) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে।’

চলতি বছরের শুরুতে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপল অ্যাকশন’ (এনপিএ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে। সে সময় প্ল্যাটফর্মটির ৯৯ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তখনই মেঘমল্লার বসুর নাম এনপিএর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আলোচনা সামনে আসে। এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেঘমল্লার নিজেই জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে এনপিএতে যোগ দিয়েছেন।

ছাত্র ইউনিয়নের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে ‘সাংগঠনিক মতদ্বৈততা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সৃষ্টি’ হতে পারে। এ বিবেচনায় তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সেখানে বলা হয়, তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি। ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতাদের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। পাশাপাশি সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্বের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.