সুইস টাওয়ার ৮০০ কোটি টাকা কিনছে পূবালী ব্যাংক

রাজধানীর হাতিরঝিল–সংলগ্ন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানাধীন ‘সুইস টাওয়ার’ ভবনটি কিনছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ৮০০ কোটি টাকায় নির্মাণাধীন ২৭ তলা ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ প্রকাশিত কোম্পানির তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও লিংক রোড হয়ে গুলশান-১ নম্বরের প্রবেশপথে প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত প্রায় ৫৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন ভবনটি কেনার বিষয়ে গত বুধবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ভবনটিতে তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ২৭টি তলা রয়েছে। ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পূবালী ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় সেখানে স্থানান্তর করবে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় রাজধানীর মতিঝিলে নিজস্ব ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ভবনটি মূলত আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল সুইসটেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ কমাতে ভবনটি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিমউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রুপটির তিনটি কারখানা পুড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ কারণে ভবনটি বিক্রি করে ব্যাংকঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবনটি বিক্রির বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পূবালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মতিঝিলে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট জায়গায় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন ভবনের সন্ধানে ছিল ব্যাংকটি।

ব্যাংকটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ লিটন মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান ভবনে প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে সুইস টাওয়ার ভবনটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগ ব্যাংকের জন্য লাভজনক হবে বলে তারা মনে করছেন।

দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম মুনাফাকারী ব্যাংক পূবালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রথমবারের মতো ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষে ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণও প্রথমবারের মতো ১ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.