রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভে আন্তরিকতার অভাব ছিল: গীতাঞ্জলি অ্যাংমো

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলটির শীর্ষ নেতাদের আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষক সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের জবাবে রাহুল গান্ধীর ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশটির গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেছেন গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। তিনি বলেন, ২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল ‘অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা’। কংগ্রেস নেতাদের রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল।

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।

গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে ওয়াংচুককে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার এই অনশন ২৬তম দিনে গড়িয়েছে বৃহস্পতিবার।

সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আন্তরিকতার অভাব ছিল। জনগণকে আর বোকা বানানো সম্ভব নয়। এটি এক সচেতন ভারত। যারাই আন্তরিকতাহীন আচরণ করবে, তরুণ প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

সোমবার শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনমুখী পদযাত্রায় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর লোক কল্যাণ মার্গ বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতারা নজিরবিহীন অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। সেখান থেকে রাহুলকে জোরপূর্বক চ্যাংদোলা করে আটক করার সময় ধস্তাধস্তিতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। কংগ্রেস পুলিশি এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহিতার আন্দোলন হিসেবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।

আন্দোলন পুরোপুরি অরাজনৈতিক

অ্যাংমো জোর দিয়ে বলেন, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন রাজনৈতিক শ্রেণিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল লোক দেখানো প্রতীকী পদক্ষেপ বা রাজনীতি আর কাজ হবে না।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই শেভনিং স্কলার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের কাছে কোনো সরকারি বা বিরোধী দল নেই, আমাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সংসদ যেন শিক্ষাকে মৌলিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে।

তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে কেউ সাধারণ মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যুক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোনম ওয়াংচুকের নতুন দাবি

গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালত থেকে অনুমতির পর ওয়াংচুককে দিল্লির সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যেন প্রশাসন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়।

তবে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রাথমিক দাবিটি তার সাম্প্রতিক তালিকায় অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আন্দোলনের অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.