যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের সেপ্টেম্বর ডেলিভারি চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগের দিন তেলের দাম বেড়ে চলতি মাসে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পৌঁছেছে। গত ১৭ জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সংঘাত এখনো থামেনি। সোমবার রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক অভিযান চালানোর তথ্য জানায়।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তেলের দাম কিছুটা কমালেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হুতিদের পদক্ষেপ সৌদি আরবের তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আর আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক সংকেত দিলেও তা বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.